ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩

আলোচিত ভিডিও

১/১১’র নায়ক ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিন কোথায় আছেন, কেমন আছেন?

Loading...

আরেকটি ১/১১ চলে আসার পর আরো একবার অনেকের জানতে চাওয়া: ওই সময়ের সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সেনাপ্রধান হিসেবে নেপথ্যে থেকে সবকিছুর পরিচালক জেনারেল মইন ইউ আহমেদ এখন কোথায় আছেন? কেমন আছেন?

ফখরুদ্দিন আহমদ এবং মইন ইউ আহমেদ এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেসময় মঈন ইউ আহমেদকে সহযোগিতা করা একাধিক সাবেক সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার ঠিকানাও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশ।

ড. ফখরুদ্দীন আহমদ : ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক্ষমতার পালাবদলের পর ফখরুদ্দীন আহমদ বেশ কিছুদিন সরকারি বিশেষ নিরাপত্তায় দেশেই ছিলেন।

এরপর ১/১১ কর্মকাণ্ডের কিছু বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত সংসদীয় কমিটি ফখরুদ্দীনকে জেরার জন্য তলব করছে মর্মে খবর প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যে সপরিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক ফখরুদ্দীন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেটের পটোম্যাকে যে দুটি বাড়ির মালিক তার একটিতে এখন তিনি স্ত্রীসহ থাকছেন। অন্য বাড়িতে থাকে তার মেয়ের পরিবার।

খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিষয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা করছেন তিনি। তবে, স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির একটি অংশ বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের ক্ষোভের কারণে তিনি নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখেন। ২০০৯ সাল থেকে সেখানে অবস্থান করলেও তিনি সাধারণত: বাংলাদেশী কমিউনিটির সামনে আসেন না বলে প্রবাসীরা দাবি করেছেন।

২০১৫ সালের শেষদিকে তার এক বন্ধুর জানাযায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক মসজিদে উপস্থিত হয়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে, সেসময় বেশ কয়েকজন তার সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জানাযা শেষ করে দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান তিনি।

মইন উ আহমেদ : ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও ১/১১ এর সময়ের সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেসময়ই ঘটে আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড।

পরে অবসর নিয়ে অনেকটা নীরবে ২০০৯ সালের জুন মাসে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। বর্তমানে নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ জীবনযাপন করছেন মইন ইউ আহমেদ। প্রথমে ফ্লোরিডায় ছোট ভাই ও ছেলের কাছে থাকলেও পরে ‘থ্রোট ক্যানসার’ ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য তিনি নিউইয়র্কে চলে যান। ক্যানসারের জন্য কেমোথেরাপি ও বোনম্যারো অস্ত্রোপচারের পর এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি।

প্রবাসীরা জানিয়েছেন, দু’ কক্ষের একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন ১/১১ এর প্রচণ্ড ক্ষমতাধর ওই জেনারেল। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জুলাই মাসের শেষদিকে তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। ওই বিয়েতে বেশ হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় তাকে। পুরোটা সময়জুড়ে সঙ্গে ছিলেন মিসেস মইন।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে তিনি কিছুদিন পরই দেশে ফিরে আসবেন বলা হলেও তা আর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একবার শুধুমাত্র সৌদি আরবে হজ করতে গিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে। এ সময়ের মধ্যে ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডার আয়োজনে উত্তর আমেরিকা রবীন্দ্র সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে তিনিও বাংলাদেশী কমিউনিটি থেকে নিজেকে একটু দূরে রাখেন।

১/১১ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি উঠেছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে। জাতীয় সংসদেও মন্ত্রী-সাংসদরা একই দাবি তুলেছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন ঘটনার তদন্ত করেছিলেন। ব্যবস্থা নিতে সুপারিশও জমা দিয়েছিলেন ২০১১ সালে, কিন্তু সেই সুপারিশ প্রকাশিত হয়নি।

Posted by Newsi24

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর



রে