ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ৬ মাঘ ১৪২৩

আলোচিত ভিডিও

কবে সরব হবেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা, জানেন না কেউ

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫০২ জন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ৭৩ জন। এর সঙ্গে আছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন দলে। নতুন কমিটি ঘোষণার পর প্রথম মিশনেই ব্যর্থতার পরিচয় দেন বেশিরভাগ নেতা।

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এর কর্মসূচিতে তাদের মাঠে না দেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন- তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাজ কী? তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশার সুরে বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইতিমধ্যে সাজা দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর নানা পরিকল্পনা চলছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা করা হচ্ছে। এতকিছুর পরও কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘুম ভাঙছে না। কবে তাদের ঘুম ভাঙবে। কবে সরব হবেন তারা। কেন্দ্রের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদেরও কর্মসূচিতে রাজপথে দেখা যায়নি। তারা ব্যস্ত পদের তদবিরে।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাবেন আর কেন্দ্রীয় নেতারা দিব্যি আরাম-আয়েশে দিন কাটাবেন, এভাবেই কি চলবে দল। নাকি এর পরিবর্তন হবে। ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সারা দেশে অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সিনিয়র নেতারা তাদের খোঁজখবরও নেননি। এসব নিয়ে দলের হাইকমান্ডের গভীরভাবে ভাবা উচিত বলে মনে করেন তারা।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন বলেন, ‘মামলা-হামলা সহ্য করেও আমরা মাঠে থাকছি, মার খাচ্ছি। আর কেন্দ্রীয় নেতারা আরাম-আয়েশ করছেন। তাদের কাজটা কী? কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আন্দোলনের প্রত্যাশিত ফল আসছে না।’

তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবরা ভাগ করে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মসূচি পালন করতে পারতেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে দেখলে তৃণমূলও উজ্জীবিত হতো। সোহরাব বলেন, এতকিছুর পরও সিনিয়র নেতারা কেন রাজপথে নামেননি বিষয়টি অবশ্যই চেয়ারপারসনকে অবহিত করা হবে।

সারা দেশে দলের কর্মসূচি পালিত হলেও ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখা যাচ্ছে না কেন- জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ঢাকা মহানগর বা কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নেই এটা ঠিক নয়। মহানগর নেতারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তাদের অনেক মিছিলে পুলিশ হামলা করেছে, গুলি করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা বিরোধীদের উপস্থিতি টের পেলেই হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে, গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্রের সামনে নিরস্ত্র অবস্থায় যতটুকু থাকা যায় ততটুকু চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সিনিয়র নেতারা রাজপথে না নামায় এ নিয়ে দলের হাইকমান্ডও বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করে। সর্বশেষ ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই- এ স্লোগান আর দেবে না। তোমরা তো দূরের কথা সিনিয়ররাও তখন রাজপথে নামোনি।’
কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যর্থতার কারণেই দুই দফা আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল- এবার তারা রাজপথে নামবেন।

শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে তারা কর্মীদের পাশে থাকবেন। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা এবারও পূরণ হয়নি। নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল ও ঢাকায় ৭ জানুয়ারি সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। কেন্দ্রের নির্দেশে অতীতের মতোই ৫ জানুয়ারি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর হামলার মুখে পড়েও তারা পিছু হটেননি। বরিশাল, চট্টগ্রাম, নওগাঁসহ অনেক এলাকায় নেতাকর্মীরা ব্যাপক হামলার শিকার হন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল- ৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় নেতারা সফলভাবে সমাবেশের আয়োজন করবেন। কিন্তু সরকারের কঠোর মনোভাব দেখে আগে থেকেই তারা পিছু হটেন। পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় গ্রেফতারের ভয়ে সিনিয়র নেতারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়মুখী হননি। ৭ জানুয়ারি সকাল থেকে আইনশৃংখলা বাহিনী পল্টনের কার্যালয় ঘিরে রাখে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ হাতেগোনা কয়েক নেতাকে কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় দেখা যায়।

কর্মসূচিতে বাধা ও সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়েও ক্ষোভ তৃণমূলের। তারা জানান, ৫ জানুয়ারি সারা দেশে সফলভাবে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ব্যর্থতার দায়ভার আবার কেন তৃণমূলের ওপর চাপানো হল। কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করতে না পারায় এর প্রতিবাদে মহানগরে কর্মসূচি দেয়া যেত। কিন্তু মহানগরের সঙ্গে দেশজুড়ে কর্মসূচি দিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কেন্দ্রের নির্দেশে তারপরও তৃণমূলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু ঢাকা মহানগর নেতারা কোথায় ছিলেন। কেন তারা রাজপথে নামেননি। মহানগরের প্রতিটি থানায় দলের কার্যালয় রয়েছে। এসব কার্যালয়ের সামনে ১০ জন করে কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালন করতে পারতেন। কিন্তু এত বিশাল বহরের কমিটির একজন নেতাকেও ওইদিন মাঠে দেখা যায়নি। আন্দোলনে মাঠে না থাকার পর যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থাকছেন বিপদের সময় তাদেরও খোঁজ নেয়া হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, ‘সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন। সিনিয়র নেতারা এর চেয়ে বেশি ঝুঁকি নিলে আমরা যারা তৃণমূলে রাজনীতি করি তারা আরও উজ্জীবিত হব।’
তিনি বলেন, ‘অনুমতি নিয়ে সমাবেশ আর কতকাল। যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে তারা তো গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের সুযোগ দেবে না। আমাদের এমন কিছু করতে হবে যাতে জনগণ মনে করে বিএনপি সত্যিই তাদের জন্য রাজপথে আছে। জনগণের মধ্যে এমন বার্তা দেয়া গেলে তারাও বিএনপির সঙ্গে রাজপথে নামবে।’ কামাল আরও বলেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে আহ্বান থাকবে সিনিয়র নেতারা যেন রাজপথে লড়াই করেন। যারা কর্মসূচি পালন করবেন না তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারপারসনকে কঠোর হতে হবে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবেন তাদের যেন দল মূল্যায়ন করে।
ফেনী যুবদল নেতা মো. রিয়াজউদ্দিন শামীম জানান, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা পদ-পদবির জন্য প্রতিদিন গুলশানে শোডাউন করছেন। কিন্তু কর্মসূচিতে তাদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি দলের হাইকমান্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিগত আন্দোলনে একজন নিকটাÍীয় পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা তার খোঁজও নিচ্ছেন না। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা রাজপথে নামছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখছি না।’ এভাবে আর কতদিন ওইসব নেতা আরাম-আয়েশে কাটাবেন উল্টো প্রশ্ন রাখেন শামীম।

Posted by Newsi24

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর



রে